Breaking News
Home / Education / ভাইভা অভিজ্ঞতা, অনেক তো গতানুগতিক গল্প শুনলেন, এবার একটু মজাদার ভিন্নধর্মী কোন ভাইভার গল্প শুনেন

ভাইভা অভিজ্ঞতা, অনেক তো গতানুগতিক গল্প শুনলেন, এবার একটু মজাদার ভিন্নধর্মী কোন ভাইভার গল্প শুনেন

অনেক তো গতানুগতিক গল্প শুনলেন, এবার একটু মজাদার ভিন্নধর্মী কোন ভাইভার গল্প শুনেন>>>

ভাইভার ১৫/২০ দিন আগে থেকে আমি প্রায়ই স্বপ্ন দেখতাম ভাইভাতে লেট হয়ে যাচ্ছে, কিছুতেই পৌছাতে পারতেছিনা। ঠিক এরকম সিচুয়েশনেই পড়ি ভাইভার দিন।
ধানমন্ডি ৩২ এর আপুর বাসা থেকে ৮:৩০ এ বের হই, দুলাভাই বলসিলো আমি তোকে গাড়িতে নামায় দেই। আমি ভাব নিয়ে বলসি লাগবে না, পাঠাওয়ে চলে যাবো।

দশমিনিট ধরে কলাবাগানে পাঠাও খুঁজলাম, এই সকালের সময়টা খুব বিজি টাইম সবার জন্য।
একটাকে পাইসি সে জ্যামে আটকা, ৮:৪০ হয়ে গেল তখন। ক্যান্সেল করে দিলাম হাটা, দুটো সিগন্যাল পার হয়ে গাড়ি নেব, ট্যাক্সি বা পাঠাও।
আর দশমিনিট হাটলাম, ৮:৫০ তামাশা শুরু এরপর, পকেটে হাত দিয়ে দেখি মানিব্যাগ নাই, মানে আমি যে ভাইভার প্যান্ট পড়সি ওটাতে মানিব্যাগ নেই ই নাই, ওটা জিন্সের প্যান্টে র‍য়ে গেসে😂😂

স্বপ্নের কথা মনে পড়ল, কয়েকবার চিমটি কেটে দেখলাম এটাও কি দুঃস্বপ্ন কি না? তবে মাথা ঠান্ডা রেখে সিদ্ধান্ত নিলাম।
এখন যদি আবার আপুর বাসায় ব্যাক করি অবস্থা খারাপ হবে, আরও ১৫-২০ মিনিট যাবে, ততক্ষণে ৯:১০ হবে, তারওপর ঢাকার জ্যাম।
আবার ওখান থেকে দ্রুত হাটা দিলে পিএসসি ৩০ মিনিটের বেশি হবেনা
সিদ্ধান্ত নিলাম আজকে হেটেই যাবো, বিকাশে যদিও টাকা ছিলো তবে তোলার উপায় নাই, সব দোকান বন্ধ 😂হাটলাম আরও দশমিনিট। এক লোককে পেলাম

আলাদীনের চেরাগের মত, বললাম আংকেল পিএসসির রাস্তা কোনটা, দেখিয়ে দিলেন। তারপর ইতস্তত করে ভাইভার কাহিনী বুঝিয়ে বললাম, আমাকে ২০ টা টাকা দেন পারলে 😆
গেটআপ দেখে দিয়ে দিলেন, ৫০ টাকাই দিলেন, রাস্তাও বুঝিয়ে দিলেন। বললাম বিকাশ থাকলে বলেন, এখনই দিচ্ছি এটা, তবে উনার বিকাশ নাই।
লোড করে দিতে চাইসি, লোকটা নেয়নি। পরে ফোন নাম্বার নিয়ে চলে আসলাম। উনার দেওয়া টাকা থেকে দশ টাকা দিয়ে সাথে সাথে বাসে উঠে চিড়িয়াখানার (wonderland) সামনে নেমে গেসি। তখন ৯:১৫, রিকশা খুঁজি পাইনা, আর ওদিকে রিকশা যাবে ঘুরাপথে। এক বয়স্ক লোককে দেখে বললাম পিএসসির শর্টকাট রাস্তাটা দেখিয়ে দেন, রিকশা তো নাই, কত সময় লাগবে?

উনি ভাইভার কথা শুনে বললেন, আমার সাথে আসো, আমিও ওদিকে যাবো আমার অফিস পাশেই , দশ মিনিট লাগবে। উনিও সরকারি একটা অফিসের কর্মকর্তা, শেষে উনার সাথে কথা বলতে বলতে হেঁটেই ৯:২৫ এ পিএসসিতে পৌছে গেলাম। সাড়ে নয়টায় প্রবেশের নিয়ম।
ভাইভা হল মোটামুটি, সে অভিজ্ঞতা আরেকদিন।

ফলাফল: শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত

★রেজাল্টের দিন বাসায় রেজাল্ট বলার পর পরই ৫০ টাকা দেওয়া সে আংকেল/বড় ভাইকে ফোন দিলাম, রেজাল্ট শুনে অনেক খুশি হলেন। ঢাকায় গেলে দেখা করব বললাম।

উনার ৫০ টাকা এখনও শোধ করা হয়নি, উনি কোনমতেই নিবেন না। আমি চাইলে ফ্লেক্সিলোড করেও দিতে পারতাম, দেই নি। কিছু ঋণ শোধ না করা ভালো, এগুলো আজীবন ঋণ হিসেবে থাকা উচিত।
নীতি নৈতিকতা এবং আদর্শের সাথে কাজ করে যেতে চাই।
এরকম অবস্থায় পড়লে সবসময় ধীরে সুস্থে ঠান্ডা মাথায় সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন।

About dolonkhan100

Check Also

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনয়ী সেই মেয়েটির বিসিএস ক্যাডারের স্বপ্নভঙ্গ!

তাহেরা ফাইয়াজ মৌ। পড়াশোনা করতেন দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি)। পড়াশোনা ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *