Breaking News
Home / Entertainment / ‘প্রযোজক হাফপ্যান্ট পরাত’ ভেতরের খবর ফাঁস করলেন নাসরিন

‘প্রযোজক হাফপ্যান্ট পরাত’ ভেতরের খবর ফাঁস করলেন নাসরিন

পুরো নাম নাসরিন আক্তার নার্গিস হলেও চলচ্চিত্র অঙ্গনে শুধু নাসরিন নামেই অধিক পরিচিত। সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘লাভ’ ছবির মধ্য দিয়ে ১৯৯২ সালে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করেন অভিনেত্রী নাসরিন।নৃত্য সহশিল্পী হিসেবে যাত্রা শুরু হলেও দেশের প্রথম সারির প্রায় সব নায়কের বিপরীতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়

করেছেন তিনি। রুপালি পর্দায় কৌতুক অভিনেতা টেলি সামাদের সঙ্গে জুটি হয়ে আলোচনায় আসেন তিনি।তবে কৌতুক অভিনেতা দিলদারের নায়িকা হিসেবেই দর্শকদের কাছে বেশ পরিচিত ছিলেন। দর্শকরাও এই জুটিকে সাদরে গ্রহণ করেন।সিনেমা পর্দায় আগমন ঘটলেই দর্শকদের হাততালিতে মুখরিত হয়ে উঠতো হলের

ভিতরের পরিবেশ। লাভ করেন আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা। তবে বিভিন্ন সিনেমায় তাকে দেখা গেছে আফজাল শরীফ ও কাবিলার সঙ্গেও। নব্বই দশকের প্রায় সব ছবিতেই দেখা মিলতো তার। নানা রকম চরিত্রে হাস্য রসাত্মক দৃশ্য নিয়ে হাজির হতেন তিনি।দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সিনেমায় অভিনয়ের সংখ্যাও কম নয়। পাঁচ শতাধিক

চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন নাসরিন। তবে তিনি অশ্লীল তকমা নিতে নারাজ। কারণ যখন যে জোয়ার আসে তাতে অনেক সময় অভিনয় শিল্পীদের কিছু করার থাকে না। এমনটাই বিশ্বাস এই নায়িকার।সম্প্রতি কথা বলেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ক্যারিয়ার নিয়ে। সেখান থেকে চুম্বক অংশ পাঠকের জন্য তুলে ধরা

হলো।প্রতি বছরই তিনি কোরবানি দিতেন, গরিব ও অসহায়দের সাহায্য করতেন। কিন্তু গত তিন বছর ধরে কোরবানি দিচ্ছেন না নাসরিন। কেন দিচ্ছেন না তা তিনি জানাননি। প্রথমে ডিপজলের সাথে গান করত চাননি তিনি। ‘কুত কইরা দিমু’ গানটি ভালো লাগেনি নাসরিনের। পরে ডিপজলের ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে তিনি গানটিতে কাজ করেন।স্মৃতিচারণ করতে করতে এক সময় নাসরিন বলেন- শুধুমাত্র চলচ্চিত্রকে ভালোবেসে অনেক পরিচালক, অভিনিয় শিল্পী ও টেকনিশিয়ানরা মুড়ি

খেয়ে থেকেছে। মুখ ফুটে কখনোও কিছু বলেনি। কেয়ামত থেকে কেয়ামত সিনেমার শুটিংয়ে সালমান ভাই আমাকে মুটকি বলায় আমি তাকে ঢিল মেরেছিলাম, তখন আমি উনাকে চিনতাম না। ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবিতে শাবনাজের নায়িকা থাকার কথা। শিডিউলের কারণে মৌসুমিকে নিয়েছে পরিচালক সোহানুর রহমান

সোহান।শুরুটা হয়েছিল দিলদার ভাইয়ের সাথে তাই আমাকে কেউ নায়িকা হিসাবে নিতে চাইতো না। অনেক নায়ক বলতো ও তো দিলদারের নায়িকা ওর সাথে অভিনয় করবো না। ওর সাথে অভিনয় করলে আমার ক্যারিয়ারের সমস্যা। অভিনয় জীবনে আমাকে কেউ খারাপ করতে পারেনি। দীর্ঘ ২৮ বছরে আমি কারও

সাথে আপোষ করিনি। ইন্ডাস্ট্রিতে জোর করে কিছু হয় না।আইটেম গানগুলো আমি করতে চাইতাম না। আইটেম গান করতাম শুধু একটাই কারণে, আমি বসুন্ধরায় ফ্লাট কিনেছিলাম। সেই টাকা আমি কিস্তিতে পরিশোধ করতাম। একটানা ২০ বছর আইটেম গানে কাজ করে কখনও ১৫-২০ হাজারের বেশি সম্মানী পাইনি।

অ’শ্লীলতার সময় প্রযোজকরা কোটি কোটি টাকা কামিয়েছে। বাধ্য হয়ে আমরা কাজ করেছি।আমি মুনমুনকে প্রচুর হেইট করতাম। এরা এসে পরিবেশ নষ্ট করে দিয়েছে। কিন্তু দেখলাম যে না ওকে (মুনমুনকে) আসলে প্রযোজকরা হাফপ্যান্ট পরতে বলত। মুনমুন কান্না করতো ডিপজল ভাইয়ের বাসায়। বলত, সিনেমায় কাজ

করতে এসেছি কী আপনাদের এই নোংরা কাপড় পরার জন্য? তখন ওরা (প্রযোজকরা) বলত এটা পরলে পরো না পরলে চলে যাও। তখন মুনমুনের ওপর আমার শ্রদ্ধাবোধ বেড়ে যায়। এরপর থেকে আমি মুনমুনের সাথে কথা বলা শুরু করি। চলচ্চিত্র বাহির থেকে যতটা চকচকে, ভেতরটা আসলে ফাঁকা।আমার ধ্যান-জ্ঞান সব

কিছু চলচ্চিত্র। আমাকে কোটি টাকা দিলেও আমি এটা ছাড়তে পারব না। সবার আগে প্রাধান্য দিয়েছি আমি শিল্পী, আমার কাজ আগে।বিয়ে করার ইচ্ছে ছিল না। আমি ছেলেদের প্রতি বিরক্ত ছিলাম। পরে ওকে (রিয়েল) ভালো লাগে। দেখলাম ওর সাথে আমার সব কিছু মিলে যায়, আমি যা চাই ও আসলে সেরকম, পরে

আমি ওকে বিয়ে করতে চাই এবং ২০১২ সালে আমরা বিয়ে করি, এখন আমি দুই সন্তানের মা।বর্তমানে হাতে তেমন কাজ নেই। সম্প্রতি একটি কাজ করেছি আনান্দ-অশ্রু সিনেমায়। আইটেম গানে আর কাজ করবো না। আমার এখন দুইটা বাচ্চা আছে। এখন আইটেম গান করা অসম্ভব।

পাঠকের মন্তব্য:

About admin

Check Also

কোয়েলকে পড়াশোনা শেষ না করে অভিনয়ে অনুমতি দেননি রঞ্জিত মল্লিক

২৮ সেপ্টেম্বর ৭৭-এ পা দিলেন রঞ্জিত মল্লিক। আদতে কেমন ছিলেন ভবানীপুরের মল্লিক বাড়ির ছে’লে? আনন্দবাজার ...

Leave a Reply

Your email address will not be published.