Breaking News
Home / Education / মাত্র একটি চয়েজ দিয়েই বিসিএস ক্যাডার!

মাত্র একটি চয়েজ দিয়েই বিসিএস ক্যাডার!

ছোটবেলা থেকে সাধারণ জ্ঞানের প্রতি ছিলো প্রবল আগ্রহ। কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স ও কারেন্ট ওয়ার্ল্ড পড়তাম ২০০৫ সাল থেকে। তখন থেকেই সাধারণ জ্ঞানের নোট নেয়ার অভ্যাস গড়ে ওঠে। কিন্তু এগুলো কোন কিছুই বিসিএসকে টার্গেট করে ছিলো না। কিন্তু বাবা বাংলাদেশ সরকারি কর্ম

কমিশনের কর্মকর্তা থাকার কারণে সরকারি চাকুরির প্রতি ঝোঁকটা সবসময় বেশি ছিলো। ২০০৮ সালে মাধ্যমিক ও ২০১০ সালে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে ভর্তি হই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগে। ৩.২৩ সিজিপিএ নিয়ে বিবিএ ও ৩.৫০ সিজিপিএ নিয়ে এমবিএ সম্পন্ন করি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস ও কর ক্যাডারের প্রতি দুর্বলতা তৈরি হয়। তাই ৩৬ তম বিসিএস- এ প্রথম পছন্দ অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস আর দ্বিতীয় পছন্দ ছিলো ট্যাক্স। ২০১৬ সালে এমবিএ চলাকালীন ৩৬ তম বিসিএস এর প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হই।

ইতিমধ্যে ৩৭তম বিসিএস এর প্রজ্ঞাপন জারি হয়। ট্যাক্স ও কাস্টমস ক্যাডার সার্কুলারে না থাকায় অনেকটা আত্মবিশ্বাস আর ঝুঁকি নিয়েই শুধু অডিট অ্যান্ড আকাউন্টস ক্যাডার চয়েজ দেই। ২০১৭ সালের শুরুতে লালমাটিয়া মহিলা কলেজে যোগদান করি। সেখানে থাকাকালীন ৩৬তম বিসিএস এর ভাইভা ও ৩৭তম বিসিএস এর লিখিত পরীক্ষায় অবতীর্ণ হই। প্রবল আত্মবিশ্বাস নিয়ে ভাইভা দিয়েও ৩৬তম বিসিএসের যাত্রা শেষ হয় নন-ক্যাডার ২য় শ্রেণিতে সুপারিশপ্রাপ্তের মাধ্যমে।

তাই অনেকটা হালকাভাবেই ৩৭তম বিসিএস- এর ভাইভা পরীক্ষায় অবতীর্ণ হই। ভেবেছিলাম ভাইভা বোর্ড একটি চয়েজ দেয়ার করণে অনেক বকা-ঝকা করবে। কিন্তু আমার ভাবনাকে ভুল প্রমাণ করে মাত্র ৫-৭ মিনিটে ভাইভা সম্পন্ন করেন শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক আনোয়ারা ম্যাডাম। ভাইভা দেয়ার পর হতাশ ছিলাম। কিন্তু আমাকে সবসময় প্রেরণা জুগিয়েছে আমার সহধর্মিণী।

আমার স্ত্রী বলত, সবার দোয়ায় আর তোমার আত্মবিশ্বাসে ইনশাআল্লাহ্‌ ভালো কিছু হবে। অবশেষে ২০১৮ সালের ১২ই জুন বিকালে রেজাল্টের পিডিএফটা ওপেন করি। সৌভাগ্যক্রমে নিজের রেজিস্ট্রেশন নাম্বার খুঁজে পাই দ্বিতীয় মেধাস্থান হিসেবে।

যেহেতু বিসিএস পরীক্ষায় নিয়োগ প্রাপ্তি সময় সাপেক্ষ ব্যাপার তাই এটি মাথায় রেখে নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করা উচিত। নিজের ব্যক্তিত্ববোধ, অভিরুচি, জীবন-যাপন, বিষয়-ভিত্তিক পড়াশোনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ক্যাডার প্রথম দিকে থাকলে ভাইভাতে কিছুটা সুবিধা পাওয়া যায়।

প্রিলিমিনারি প্রস্তুতি নেবার সময় বিষয়-ভিত্তিক আলাদা নোট খাতা ব্যবহারের চর্চা থাকলে প্রস্তুতি শক্তিশালী হয়। লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি ভালো করতে বাংলা ও ইংরেজি দৈনিক পত্রিকা পড়ার কোন বিকল্প নেই। প্রতিদিন গণিত ও মানসিক দক্ষতা সম পরিমাণ সময় দিয়ে চর্চা করা উচিত। বিজ্ঞান লিখে লিখে চর্চা করলে পরীক্ষার হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উত্তর করা যায়।

বাংলাতে ভাল করতে হলে ব্যাকরণের পাশাপাশি রচনা নোট করার ব্যাপারে যত্নশীল হতে হবে। ইংরেজিতে ভাল করতে চাইলে সপ্তাহে কমপক্ষে একদিন অনুবাদ চর্চার পাশাপাশি ভোকাবুলারি স্টক বাড়ানো, ফ্রি হ্যান্ড রাইটিংয় ও রচনার উপর জোর দিতে হবে।

বাংলাদেশ অংশে ভালো করতে হলে সংবিধান, মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশের অর্থনীতি, উন্নয়ন প্রকল্প ইত্যাদি খুব ভালোভাবে পড়তে হবে। আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি অংশে ভালো করতে হলে সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলো নোট করে পড়লে ভালো নম্বর পাওয়া যায়। ভাইভা পরীক্ষায় ভালো করতে হলে আত্মবিশ্বাসের কোন বিকল্প নেই। এর পাশাপাশি সমসাময়িক বিষয়, মুক্তিযুদ্ধ, সংবিধান, বিষয়-ভিত্তিক পড়াশোনা, পছন্দকৃত ক্যাডার ইত্যাদি বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ।

নার্ভাসনেসকে বশে রেখে নিজের উপর বিশ্বাস নিয়ে ভাইভা দিতে পারলে ইনশাআল্লাহ্‌ সফলতা আসবে। অবশেষে ৩৮তম ভাইভা ফলাফল প্রত্যাশী, ৪০তম লিখিত ফলাফল প্রত্যাশী ও ৪১তম প্রিলিমিনারির যোদ্ধাদের জন্য রইল অনিঃশেষ শুভকামনা। লেখক: সহকারী মহা হিসাব-রক্ষক, ৩৭ তম বিসিএস (অডিট অ্যান্ড আকাউন্টস)।।

About admin

Check Also

গুগলে ডাক পেলেন বাংলাদেশি আদ্রীকা, বার্ষিক বেতন ১ লাখ ডলার

গুগলের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব পেয়েছেন বাংলাদেশের আদ্রীকা খান। বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জের আলী ...

Leave a Reply

Your email address will not be published.